সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আত্না ও দেহ


মৃত্যু নিছক দেহ ও রূহের আলাদা হয়ে যাবার নাম- সম্পুর্ণ বিলুপ্ত ও নিশ্চহ্ন হয়ে যাবার নাম নয়। দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাবার পর রূহ নিশ্চন্ন হয়ে যায় না। বরং দুনিয়াবী জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানবিক এবং নৈতিক উপার্জনের মাধ্যমে যে ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তার সবটুকু সহকারে জীবিত থাকে। এ অবস্থায় রূহের চেতনা অনুভুতি, পর্যোবেক্ষন ও অভিজ্ঞতার অবস্থা অনেকটা স্বপ্নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একটি অপরাধী রূহকে ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসাবাদ, তারপর তার আযাব ও যন্ত্রণার মধ্যে পড়ে যাওয়া এবং তাকে দোজখের সামনে উপস্থিত করা-এসব কিছু এমন একটি অবস্থার সাথে সাদৃশ্য রাখে যা একজন খুনের আসামীকে ফাসী দেবার তারিখের একদিন আগে একটি ভয়ংকর স্বপ্নের আকারে তার কাছে উপস্থিত হয়। অনুরূপভাবে একটি পবিত্র পরিচ্ছন্ন ও নিষ্কলুষ রূহের সম্বর্ধনা, তার পর তার জান্নাতের সুখবর শোনা এবং জান্নাতের বাতাস ও কুশবুতে আপ্লুত হওয়া- এসব কিছুও এমন একজন কর্মচারীর স্বপ্নের সাথে মিলে যায়, যে সুচারুরূপে নিজের কাজ সম্পন্ন করার পর সরকারের ডাকে হেড কোয়ার্টারে হাযির হয় এবং সাক্ষাতকারের জন্য চুক্তিবদ্ধ তারিখের একদিন আগে ভবিষ্যত পুরুষ্কারের প্রত্যাশাদীপ্ত একটি মধুর স্বপ্ন দেখে। শিংগার দ্বিতীয় ফুতকারে এ স্বপ্ন হঠাৎ ভেংগে চুরমার হয়ে যাবে। অবাক হয়ে বলবে, আরে আমাদের শয়নগৃহ থেকে উঠিয়ে আনলো কে? কিন্তু ইমানদাররা পূর্ণ নিশ্চিন্ততার সাথে বলবে, করুণাময় আল্লাহ এ জিনিসের ওয়াদা করেছিলেন এবং রসূলদের বর্ণনা সঠিক ছিল। (তাফহীমূল কুরআন)


 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবার প্রথা

  সূরা নিসা-৩: যিনি তোমাদেরকে এক ব্যাক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার সন্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন। সন্তানকে লালন - পালন করতে পরিবারে পিতা - মাতার যৌথ ভূমিকা প্রয়োজন। পশ্চিমা বিশ্বে যেখানে সন্তান পরিবারে লালিত - পালিত হওয়ার সুযোগ পায়না সেখানে তারা শিশু নিকেতনে বা মাতৃসদনে বেড়ে ওঠে। একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে বেড়ে ওঠা সন্তানদের মাঝে ভালবাসা , স্নেহ , মায়া মমতা পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুদের চেয়ে কম। তাছাড়া তারা অসহিঞ্চ ও বদ মেজাজি স্বভাবের হয়। মানব জন্মের সাথে পরিবার প্রথা জড়িত। যদি পরিবার বিলুপ্ত হয়ে যায় তবে যা ঘটবে - o        পৃথিবীর অন্যান্য পশুর ন্যায় মানুষও সেক্স করার স্বাধীন ক্ষমতা লাভ করবে। o        কোন মানব সন্তানের পিতা নির্ধারণ করা যাবেনা। o        শুধু মাত্র নারীকেই সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে। o      ...

দন্ত রোগসমূহ

  Ø      দন্ত রোগসমূহ দন্তক্ষয়: দন্তক্ষয় বা কেরিজ একটি জীবানু জনিত রোগ। যে ধরনের জীবানু এই রোগের সৃষ্টি করে তার মধ্যে স্ট্রেপটোকক্কাস ও ল্যাকটোবেসিলাস নামক জীবাণুই প্রধান। দাঁতের গায়ে জমে থাকা খাদ্যদ্রব্যের উপর অম্ল প্রস্তুতকারী জীবানু স্থানীয়ভাবে অম্ল সৃষ্টি করে যা দাঁতের ক্ষয়সাধন করে এবং দাঁতের গায়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এটাই দন্তক্ষয় রোগ বা কেরিজ। জীবানু প্রলেপ, ডেন্টাল প্লাগ বা ব্যাকটেরিয়াল প্লাগ মুখে সাধারণত: বিভিন্ন ধরনের জীবাণু অবস্থান করে। আহারের পরে মুখ ও দাঁত ভালভাবে পরিষ্কার না করলে ঐ সব জীবানু দাঁতে লেগে থাকা খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং এইভাবে লক্ষ লক্ষ জীবাণু জমে উঠে। এই ধরনের জীবাণু স্তরকে ব্যাকটেরিয়াল প্লাগ বলে। সহজ কথায় ভোরবেলায় যে আঠাল সাদা বস্তু মুখের মধ্যে পাওয়া যায, এটাই জীবাণু প্রলেপ। পরীক্ষা করলে দেখা যায় প্রতি মিলিগ্রাম জীবানু প্রলেপে ৪০ কোটিরও অধিক জীবাণু অবস্থান করে। খাদ্যকনা ভালভাবে কুলকুচা করলে ধুয়ে যাবে, কিন্তু ডেন্টাল প্লাগ জীবানু প্রলেপ আঠালো বলে কেবল ব্রাশ ব্যবহার করলেই দূরীভুত হতে পারে। দন্ত শাস্ত্রে দাতের দুইট...

নিম্মি হেলথ কেয়ার