সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মানব জাতীর সৃষ্টিতত্ব:


স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন “আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করবো” তারা বলল: আপনি কি যমীনে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে, তারা তন্মধ্যে অশান্তি উৎপাদন করবে এবং রক্তপাত করবে? এবং আমরাই তো আপনার প্রশংসা গুনগান করছি এবং আপনারই পবিত্রতা বর্ণনা করে থাকি। তিনি বললেন: তোমরা যা অবগত নও, নিশ্চয় আমি তা পরিজ্ঞাত আছি। এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, অনন্তর তৎসমুদয় পেরেশতাদের সামনে উপস্থাপিত করলেন, তৎপর বললেন: যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাকে এসব বস্তুর নামসমূহ বিজ্ঞপিত কর। তারা বলেছিল- আপনি পরম পবিত্র, আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তদ্ব্যতীত আমাদের কোনই জ্ঞান নেই, নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়। তিনি বলেছিলেন হে আদম, তুমি তাদেরকে ঐ সকলের নাম সমূহ জ্ঞাপন কর, অত:পর যখন সে তাদেরকে ঐগুলোর নামসমূহ পরিজ্ঞাপন করেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি ভূমন্ডল ও নভোমন্ডলের অদৃশ্য বিষয় অবগত আছি এবং তোমরা যা প্রকাশ কর ও যা গোপন কর আমি তাও পরিজ্ঞাত আছি।

 

যখন আমি ফেরেশতাগনকে বলেছিলাম যে, তোমরা আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলিস ব্যাতীত সকলে সিজদা করেছিল, সে অগ্রাহ্য করলো ও অহংকার করলো এবং কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। আমি বললাম হে আদম তুমি ও তোমার সহ-ধর্মিনী বেহেশতে অবস্থান কর এবং তা হতে যা ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে ভক্ষণ কর, কিন্তু ঐ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়োনা-অন্যথা তোমরা অত্যাচারীগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে সেখান থেকে পদস্থলিত করলো। তৎপর তারা উভয়ে যেখানে ছিল তথা হতে তাদেরকে বহির্গত করলো, এবং আমি বললাম- তোমরা নীচে নেমে যাও, তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু এবং পৃথিবীতেই তোমাদের জন্যে এক নির্দিষ্টকালের অবস্থিতি ও ভোগ-সম্পদ রয়েছে।

 

 

অনন্তর আদম স্বীয় প্রতিপালক হতে কতিপয় বাক্য শিক্ষা করলো, আল্লাহ তখন তার প্রতি কৃপা দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, করুনাময়। আমি বললাম- তোমরা সবাই এখান হতে নিচে(পৃথিবীতে) নেমে যাও, অনন্তর আমার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট যে উপদেশ উপস্থিত হবে পরে যে আমার সেই উপদেশের অনুসরণ করবে বস্তুত: তাদের কোনই ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। আর যারা অবিশ্বাস করবে ও আমার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা সদা অবস্থান করবে।


 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দন্ত রোগসমূহ

  Ø      দন্ত রোগসমূহ দন্তক্ষয়: দন্তক্ষয় বা কেরিজ একটি জীবানু জনিত রোগ। যে ধরনের জীবানু এই রোগের সৃষ্টি করে তার মধ্যে স্ট্রেপটোকক্কাস ও ল্যাকটোবেসিলাস নামক জীবাণুই প্রধান। দাঁতের গায়ে জমে থাকা খাদ্যদ্রব্যের উপর অম্ল প্রস্তুতকারী জীবানু স্থানীয়ভাবে অম্ল সৃষ্টি করে যা দাঁতের ক্ষয়সাধন করে এবং দাঁতের গায়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এটাই দন্তক্ষয় রোগ বা কেরিজ। জীবানু প্রলেপ, ডেন্টাল প্লাগ বা ব্যাকটেরিয়াল প্লাগ মুখে সাধারণত: বিভিন্ন ধরনের জীবাণু অবস্থান করে। আহারের পরে মুখ ও দাঁত ভালভাবে পরিষ্কার না করলে ঐ সব জীবানু দাঁতে লেগে থাকা খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং এইভাবে লক্ষ লক্ষ জীবাণু জমে উঠে। এই ধরনের জীবাণু স্তরকে ব্যাকটেরিয়াল প্লাগ বলে। সহজ কথায় ভোরবেলায় যে আঠাল সাদা বস্তু মুখের মধ্যে পাওয়া যায, এটাই জীবাণু প্রলেপ। পরীক্ষা করলে দেখা যায় প্রতি মিলিগ্রাম জীবানু প্রলেপে ৪০ কোটিরও অধিক জীবাণু অবস্থান করে। খাদ্যকনা ভালভাবে কুলকুচা করলে ধুয়ে যাবে, কিন্তু ডেন্টাল প্লাগ জীবানু প্রলেপ আঠালো বলে কেবল ব্রাশ ব্যবহার করলেই দূরীভুত হতে পারে। দন্ত শাস্ত্রে দাতের দুইট...

আত্না ও দেহ

মৃত্যু নিছক দেহ ও রূহের আলাদা হয়ে যাবার নাম- সম্পুর্ণ বিলুপ্ত ও নিশ্চহ্ন হয়ে যাবার নাম নয়। দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাবার পর রূহ নিশ্চন্ন হয়ে যায় না। বরং দুনিয়াবী জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানবিক এবং নৈতিক উপার্জনের মাধ্যমে যে ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তার সবটুকু সহকারে জীবিত থাকে। এ অবস্থায় রূহের চেতনা অনুভুতি, পর্যোবেক্ষন ও অভিজ্ঞতার অবস্থা অনেকটা স্বপ্নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একটি অপরাধী রূহকে ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসাবাদ, তারপর তার আযাব ও যন্ত্রণার মধ্যে পড়ে যাওয়া এবং তাকে দোজখের সামনে উপস্থিত করা-এসব কিছু এমন একটি অবস্থার সাথে সাদৃশ্য রাখে যা একজন খুনের আসামীকে ফাসী দেবার তারিখের একদিন আগে একটি ভয়ংকর স্বপ্নের আকারে তার কাছে উপস্থিত হয়। অনুরূপভাবে একটি পবিত্র পরিচ্ছন্ন ও নিষ্কলুষ রূহের সম্বর্ধনা, তার পর তার জান্নাতের সুখবর শোনা এবং জান্নাতের বাতাস ও কুশবুতে আপ্লুত হওয়া- এসব কিছুও এমন একজন কর্মচারীর স্বপ্নের সাথে মিলে যায়, যে সুচারুরূপে নিজের কাজ সম্পন্ন করার পর সরকারের ডাকে হেড কোয়ার্টারে হাযির হয় এবং সাক্ষাতকারের জন্য চুক্তিবদ্ধ তারিখের একদিন আগে ভবিষ্যত পুরুষ্কারের প্রত্যাশাদীপ্ত একটি মধুর স্বপ্ন...

ব্রেস্ট/জরায়ুতে ক্যান্সারের কারণসমূহ:

  o        কুড়ি বৎসর বয়সের নিচে পুন : পুন যৌন মিলন। o        বিভিন্ন সংগীর সাথে যৌন মিলন বা গণিকাবৃত্তি। o        অপরিচ্ছন্ন জননেন্দ্রিয়। o        জননেন্দ্রিয়ের বিভিন্ন রোগ , যেমন হারপিস সিমপ্লেস ভাইরাস - টাইপ দুই এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। o        বয়স ৪০ - ৬০ বছর। o        নিম্ন আর্থ সামাজিক আয়। o        বর্তমানে যে সব কনট্রাসেপটিভ পিল রয়েছে সেগুলো ব্যবহার মানে ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য বাড়তি ঝুকি , বিশেষ করে তরুনীদের ক্ষেত্রে। o        স্তনের ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে। o        স্তনে টিউমার অথবা ফোড়া হলে। o        ত্রিশ বৎসরের পর প্রথম সন্তান লাভ অথবা নি : সন্তান হলে। সন্তানকে ব...